Search

A-theism in A-vatar

                                     A-theism
in A-vatar


সাম্প্রতিককালের হলিউডি যে ছবিটি আমাদের মনে আলোড়ন তুলেছিল তা হল AVATAR। পরিচালক James Cameron অত্যন্ত দক্ষতার সাথে , মোহনীয় পরিবেশনায় এক
নিগূঢ় উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত করেছেন। যা তাঁর বিশ্বাসের স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ না
করলেও একজন মুসলিমের আকীদাহ কে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

মূলত বৈদিক ধর্মের conceptএই avatar। যিনি
মানবজাতি যখন পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত হয়, তখন তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। স্রস্টার মানবিক
রূপই হচ্ছে এই avatarবা অবতার।

James Cameronএই ছবিটির
মাধ্যমে atheism এবং সাম্রাজ্যবাদী yankeeদের
বীরত্বগাঁথা ফুটিয়ে তুলেছেন।

প্রথমত......

              অবতার মূলত হিন্দু বিশ্বাসে
ভগবানের মানবীয় রূপ হলেও অনুরূপ একটি বিশ্বাসে মুসলমানরাও আবদ্ধ, যেখানে তারা মনে
করে থাকে যে, মানবজাতির বিভিন্ন ক্রান্তিকালে স্রষ্টা কর্তৃক সঠিক দিকনির্দেশনা
প্রাপ্ত হয়ে নবী রাসুলরা ত্রাণকর্তা রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন।

ভাবছেন...... এরসাথে movieটার
সম্পর্ক কোথায়? পরিচালকের নিজের মুখেই শুনুন। Timeম্যাগাজিন
এর সাথে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, "It's an incarnation of one of the Hindu Gods taking a flesh form.
In this film what that means is that the human technology in the future is
capable of injecting a human's intelligence into a remotely located body, a
biological body."

অনেকদিন আগে আরজ আলি মাতব্বরের একটি লেখায় পড়েছিলাম যে মুসা (আ) নাকি তুর
পর্বতে আল্লাহ (সুওতা)র সাথে কথা বলেননি। বরং তিনি নাকি Alienদের সাথে
কথা বলেছিলেন।

বাংলাদেশী নাস্তিকদের গুরু মাতব্বরের সাথে হাল আমলে জনপ্রিয় হয়ে উঠা Rael movementএবং James Cameron এর কি
অদ্ভুত মিল!

AVATARছবিতে
নায়ক Jake
Sullyকে দেখানো হয়েছে ভিনজগত থেকে আগত উন্নত বুদ্ধিমত্তার মানুষ যারা Pandoraনামক
গ্রহটিতে বসবাসকৃত Naviদের সাথে
সম্পর্ক স্থাপনে গিয়েছে  একটা বিশেষ
উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে। ভগবানকে যেমন মানবীয়রুপ ধরতে হয়, Jake Sullyকেও তেমনি nativeদের রূপ
ধরতে হয়েছে।

UFOসম্পর্কিত
বই, রায়েলীয় দের Intellectual
Designএবং মাতব্বর সাহেব তাদের লেখায় প্রমান করার চেষ্টা করেছেন যে , নবী রাসুলদের
ধারনা আসলে হল ভিনগ্রহ থেকে আসা বুদ্ধিমান প্রাণীদের প্রতিনিধি এবং তাদের
ঐশীগ্রন্থ ও বিভিন্ন miracleউন্নত বিশ্ব থেকে আগত প্রাণীদের ভেল্কিবাজি ছাড়া আর
কিছুই নয়। সূক্ষ্ম কৌশলে Avatarছবিতেও সেই একই conceptদেয়া হয়েছে।

সুতরাং, স্রস্টার বৈধতা হুমকির সম্মুখীন...!  ভাবছেন,...... আজাইরা!!  James Cameronতার ব্লু naviদের সম্পর্কে কি বলেছে শুনুন, "I just like blue.
It's a good color ... plus, there's a connection to the Hindu deities which I like conceptually."

দ্বিতীয়ত......

                নাস্তিকদের একটা কথা
প্রায়ই শুনে থাকবেন, Nature!
Nature!! Nature!!!প্রকৃতি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছে, আমরা প্রকৃতিতেই
বিলীন হয়ে যাব। পরকাল বলে কিছু নেই। এবার আসুন Avatarএ। একটি গাছ (tree of souls)পুরো গ্রহটির জীবনের প্রতিচ্ছবি। প্রত্যেকটি প্রানী প্রকৃতির সাথে নিবিড়ভাবে
সম্পর্কিত। এমনকি আত্মা transferকরার
ক্ষেত্রেও আমরা দেখেছি কিভাবে শেষ পর্যন্ত নায়ককে প্রকৃতির শরণাপন্ন করা হয়।

Amazing…!!উপরন্তু
যারা মারা যায়, তারাও জীবন গাছের (tree of souls)বীজ (seeds of the sacred tree shown as very pure spirit)এ
রুপান্তরিত হয়। Utraya
Mokri(trees of voices of
ancestors)তে পূর্ববর্তীদের জীবনের স্পন্দন পাওয়া যায়।

         আপনি যদি নিজেকে ঐ nativeদের একজন
কিংবা Jake
Sullyহিসেবে কল্পনা করেন, তাহলে আপনি ধরতে পারবেননা যে এখানে স্রষ্টাকে
অস্বীকার করার conceptদেয়া
হয়েছে। নিজেকে James
Cameron এর ভুমিকায় কল্পনা করুন......এবার......!!?

তৃতীয়ত......

               সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যপার হল,
হলিউডের আগের ছবিগুলো যেমন Independence Day, Armageddonএইসব
ছবিতে Americaকে
বিশ্বের ত্রাণকর্তা হিসেবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু আফগান আর ইরাক যুদ্ধ সেই Americaকে angel of freedom থেকে angel of killerবানিয়ে
দিল। আর বর্তমানে Americaতো place of freedom থেকে place of boredom এ
রুপান্তরিত হয়েছে।

Avatarসাফাই
গাইল নতুন সুরে আর তা হচ্ছে..."আমরা আমেরিকানরা ...... আমাদের কিছু bad leaderzআছে। তারা
হয়ত যুদ্ধ বা ধ্বংসযজ্ঞ চালায় ( যেমন Avatarএ  American Army)। কিন্তু তোমাদের নিজেদের কোন
সামর্থ্য নেই নিজেদেরকে রক্ষা করার (যেমন ছিলনা Avatarএর naviদের)। তোমাদেরকে রক্ষা করতে পারে কেবল আমাদের Good guysরা। যারা Real Hero। তাই,
তোমরা উদ্ধার পেতে চাইলে , আমাদের শরণাপন্ন হতে হবে। আমাদের Good guysরাই পারে
শুধু তোমাদেরকে রক্ষা করতে......"

            Avatarএর naviরাও
পারেনি নিজেদের উদ্ধার করতে,so called Good guy এর সাহায্য লেগেছিল।


A Final word To America....

"Super
Man, Spider Man, iron Man, Bat Man, Captain America...... এতসব Good guysথাকা
সত্ত্বেও  you have failed to
protect your people… today America is more dangerous for Americans compared to
any time of history… your capitalism has failed to secure people & the
interest of the rest of the world…

it's time to say 'Goodbye , I have failed , my ideology is wrong as like as
communism…..'"

A word to the
strangers

ইসলামের বলিষ্ঠ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে নব্য
ক্রুসেডার এবং তাদের এদেশীয় দোসররা আমাদের তরুণ সমাজের মনে ভ্রান্ত conceptছড়িয়ে
দেয়ার যে প্রচারণায় নেমেছে, Avatarতাতে latestসংযোজন। নিজের বিশ্বাস এবং পরিচয় নিয়ে মাথা ঘামায়না এরকম
লাখো তরুণের অন্তরে সৃষ্টিকর্তা এবং তাঁর প্রতিনিধিদের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি
করে দেয়ার জন্য এরকম একটি ছবিই যথেষ্ট। তাই তরুণ ভাইদের কাছে আহবান, " You are the descendants
of those who shook the Roman & Persian empires throughout history with the
power of truth।তোমার
নিজের পরিচয় জান। তোমার সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের ব্যপারে নিশ্চিত হও,
অন্ধ অনুসরন করে নয়, বরং বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে,......তোমার আশপাশের বাস্তবতাতেই তাঁর
প্রমাণ ছড়িয়ে আছে......"

Be the enlightened ones
in the land of the blinds……

মোহরানার নুন্যতম পরিমান কত? বর্তমান সময়ে উম্মাহাতুল মুমিনীন দের মোহরানা এর অনুরূপ পরিমান কত?

পরম করুনাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করসি.



মোহরানার নুন্যতম পরিমান:

মোহরানার নুন্যতম পরিমান বর্ণিত হয়েসে সহীহ (নং: ১৪২৫) এ. হাদিসতে বর্ণিত হজ সাহল ইবন সাদ আল সিডি হতে, যিনি বলেসেন: "একজন নারী আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ইয়া সাল্লাম এর কাছে এসে বলেছিলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, আমি এসেছি নিজেকে আপনার নিকট বিয়ের জন্য উত্সর্গ করতে.' আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ইয়া সাল্লাম ওই মহিলাটির দিকে ভালোভাবে তাকালেন, তারপর  আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ইয়া সাল্লাম তার দৃষ্টি নামিয়ে নিলেন.  মহিলাটি যখন দেখলেন যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ইয়া সাল্লাম কোনো সিধান্ত নিলেন না, উনি বসে পড়লেন. সাহাবাদের মধে থেকে একজন এসে বলল, "হে আল্লাহর রাসূল, আপনি যদি ওনাকে বিয়ে করতে আগ্রহী না হন, তাহলে আমার সাথে উনার বিয়ে দিয়ে দেন.' তিনি বললেন, 'তোমার কি কিসু আছে (মোহরানা দেওয়ার জন্য)?' সে বলল, 'আল্লাহর শপথ, কিছুই পাইনি , হে আল্লাহর রাসূল.' তিনি বললেন, 'তোমার পরিচিত লোকদের নিকট যাও এবং দেখো কিসু পাও কিনা.' আল্লাহর রাসূল  আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ইয়া সাল্লাম বললেন, 'ভালোভাবে অনুসন্ধান কর (যদি কিসু পাও), যদিও তা হয় শুধুমাত্র একটি লোহার আংটি.' লকটে তাই চলে গেল এবং ত্রাপরে ফিরে এসে বলল, ' আল্লাহর শপথ, কিছুই পাইনি , হে আল্লাহর রাসূল, একটি লোহার আংটিও না.' আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ইয়া সাল্লাম তাকে চলে যেতে দেখে ডাকলেন. যখন লোকটি আসল তিনি বললেন, 'তুমি কোরান কতটুকু যেন?' সে বলল, 'এই এই সুরাহ.' তিনি জিগেশ করলেন, 'তুমি কি কি মুখস্ত যেন?' সে বলল, 'জি.' তিনি বললেন, 'তাহলে যাও, তোমার সাথে তার বিবাহ দেওয়া হলো তুমি কোরান এর যা যা মুখস্ত যেন তার বিনিময়ে.'

এই হাদিসটি থেকে এটা স্পষ্টভাবে প্রমানিত যে , মোহরানা যত কমই হোক না কেন তা গ্রহণযোগ্য যদি দুই পক্ষই তা মেনে নেই.



বর্তমান সময়ে উম্মাহাতুল মুমিনীন দের মোহরানা এর অনুরূপ পরিমান কত?

আবু সালামাহ ইবন আব্দুর রহমান (রা:) হতে বর্ণিত: "আমি জিগ্গেস করেসিলাম আয়েশা (রা:), রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ইয়া সাল্লাম এর স্ত্রীকে যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ইয়া সাল্লাম কি পরিমান মোহরানা দিয়েসিলেন. তিনি বললেন: 'মোহরানা, যা তিনি তার স্ত্রীদেরকে দিয়েসেলেন তা হলো বারো অকিয়াহ এবং এক নাশ.' সে জিগ্গেস করলো, তুমি কি যেন নাশ কি? সে বলল, তিনি বলেসেন যে এটা হছে এক অকিয়াহ এর অর্ধেক. যা ছিল ৫০০ দিরহাম. এটাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ইয়া সাল্লাম তার স্ত্রীদেরকে দিয়েসিলেন."
(সহিহ মুসলিম: ১৪২৬)



উম্মাহাতুল মুমিনীন দের মোহরানার মুল্য নির্ধারণ:

এক দিরহাম এর ওজন হছে ২.৯৭৫ গ্রাম.
সতরাং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ইয়া সাল্লাম এর দেওয়া মোহরানার পরিমান হছে: ৫০০ * ২.৯৭৫ গ্রাম = ১৪৮৭.৫ গ্রাম রুপা.
যা হছে প্রায় ৩১,০০০ টাকা. 


- তারেক মাসুদ



আল কুরআনের আলোকে ইসলাম প্রচার এবং দাওয়াতি কাজের আবশ্যিকতা

http://m.facebook.com/note.php?note_id=244165065630524&refid=21

ami ki jante pari amake kn block kora hoice!

Ami amr frnd k akta cmments dedicate koreci, hey my beloved doll. . . Vhul bujsen may b. Check my fb id : MAHMUDUL HASAN. Hotat kal block korar mane bujlam na.

পুঁজিবাদী অর্থনীতিঃ ক্ষুধার্ত-বিকলঙ্গ ও অপুষ্ট অর্থনীতি- প্রথম পর্ব।

পুঁজিবাদী অর্থনীতিঃ ক্ষুধার্ত-বিকলঙ্গ ও অপুষ্ট অর্থনীতি- প্রথম পর্ব।

গাজী আল-আমিন

পৃথিবীতে মানবজাতি জন্য যতগুলো জীবনাদর্শ তৈরী হয়েছে প্রত্যেকটির জীবন সম্পর্কে একটি স্বতন্ত্র মৌলিক দর্শন রয়েছে। জীবন এবং এই পৃথিবীতে যেখানে সে বাস করে এই ব্যপারে সেই মতবাদকে স্বচ্ছ, স্বতন্ত্র দ্ব্যর্থহীন ধারণা দিতে বে। কেননা জীবন সম্পর্কে তার মৌলিক দৃষ্টিভংগীর উপর ভিত্তি করেই সেই মতাদর্শ তার জীবনব্যবস্থা গড়ে তুলবে। জীবন পৃথিবী সম্পর্কে তাকে যে সমস্ত মৌলিক প্রশ্নের জবাব দিতে হবে সেগুলো লো - মানুষ কী? এই দুনিয়ায় তার মর্যাদা কী? এই দুনিয়ার ব্যবস্থা কোন ধরনের,যার সংগে মানুষের জীবনব্যবস্থাকে সামঞ্জস্যশীল হতে হবে? এই প্রশ্ন গুলোর যে সমাধান দেয়া হবে এরই আলোকে একটি বিশেষ মত তৈরী হবে, যাকে আমরা সেই মতবাদের কালিমা বলতে পারি। সেই কালিমার মাধ্যমে মতবাদ একবাক্যে জীবন সম্পর্কে তার দৃষ্টিভংগী প্রকাশ করবে।

উপরোক্ত প্রশ্নগুলোর সমাধানের মাধ্যমে জীবন সম্পর্কে যে বিশেষ কীদা তৈরী হবে তা থেকে একটি জীবনব্যবস্থা বিকশিত য়। দুনিয়ায় মানুষের আচরণ কেমন হবে এবং এখানে তাকে কিভাবে কাজ করতে হবে তথা জীবন ম্পর্কিত মানুষে যাবতীয় সমস্যার সমাধান আকীদার আলোকে হয়ে থাকে। কাজেই জীবন সম্পর্কিত তার কীদা যদি সঠিক হয় তার জীবনব্যবস্থা সঠিক হবে আর যদি ভ্রান্ত হয় তবে তার জীবনব্যবস্থা ভ্রান্ত বে। সুতরাং আমরা বলতে পারি একটি জীবন ব্যবস্থা গড়ে ওঠে দুটি জিনিসের সমন্বয়ে একটি হল তার কীদা আর অপরটি হল কীদা থেকে উদ্ভূত জীবনব্যবস্থা।    

বর্তমান পৃথিবীতে যে জীবনব্যবস্থাটি প্রতিষ্ঠিত তা হল পুজিবাদ। এই জীবনাদর্শের কালিমা হল "রাষ্ট্র থেকে ধর্মের পৃথ্কীকরন"। এই কালিমা হল পুজিবাদি জীবনব্যবস্থার বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি। এই কীদা অনুসারে মানুষ তার জীবনব্যবস্থা নিজেই রচনা করে।

এই পুজিবাদী জীবনাদর্শ অনুসারে মানুষ এক ধরনের শু। তাকে কে সৃষ্টি করলো কেন সৃষ্টি করলো প্রশ্ন তাদের নিকট অবান্তর অপ্রাসংগিক। এই জীবনাদর্শ মানুষকে এই শিক্ষা দেয় যে- এই পৃথিবী হল ভোগের স্থান আর ভোগের মাঝেই সুখ নিহি্ত। প্রাকৃতিক ভাবেই মানুষের মাঝে রয়েছে কিছু আশা,আকাঙ্খা-নুভূতি। সেই আশা আকাঙ্খা পূরন করার জন্যে রয়েছে মানুষের মাঝে প্রকৃতি প্রদত্ত শক্তি যোগ্যতা এবং পৃথিবীর বক্ষ জুড়ে রয়েছে আগণি ভোগ্যবস্তু সাজসরঞ্জাম। এসবের উপর শক্তি যোগ্যতা ব্যবহার করে সে তার আশা আকাঙ্ক্ষা পূ করবে। কাজেই নিজের জৈব প্রকৃতির দাবী পূর করা ছাড়া মানুষের জীবনের আর কোন উদ্দেশ্য নেই। আর এই দাবী পূরণ করার জন্যে কৃষ্টতর উপায়-উপকর সংগ্রহ করা ছাড়া তার শক্তি সামর্থের ২য় কোন কার্যকারীতা নেই।

ধর্মকে জীবন থেকে নির্বাসিত করার দ্বারা পুজিবাদ যে বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত দেয় তা হল মানুষের চাইতে বড় আর কোন জ্ঞানের নেই যেখান থেকে সে তার জীবন পরিচালনার জন্যে বিধান লাভ করতে পা্রে। সুতরাং নিজের চারপাশ, পরিবেশ, পরিস্থিতি, নিদর্শনাবলি ইতিহাসের শিক্ষা প্রভৃতির আলোকে চিন্তাবিদগ নেতৃবৃন্দ জীবন পরিচালনার বিধি-বিধান প্রণয়ন করবে।

"এই সভ্যতা যেদিন জন্মলাভ করাছে, ঠিক সেদিন থেকেই ধর্মের সাথে এর সংঘাত শুরু হয়েছে; বরং বলা যায়, ধর্মের বিরুদ্ধে যুক্তি বুদ্ধির সংঘাতই এই সভ্যতার জন্মদান করছে। ঘটনাচক্রে রেনেসাঁ আমলে ইউরোপে নয়া বৈজ্ঞানিক আন্দোলনের সূত্রপাত হতেই খ্রীস্টান পাদ্রীদের সঙ্গে তার তীব্র বিরোধ সংঘর্ষ দেখা দেয়। কারণ এই পাদ্রী সম্প্রদায় তাদের ধর্মবিশ্বাসের ভিত্তিকে প্রাচীন গ্রীক দর্শন বিজ্ঞানের ওপর প্রতিষ্ঠিত করে রেখেছিল। তারা এই আশা পোষণ করে রেখেছিল যে, আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষনা বুদ্ধিবৃত্তিক অনুসন্ধিসার ফলে এই ভিত্তিতে যদি সামান্যতম ফাটলও ধরে, তাহলে ধর্মের গোটা ইমারতই ধূলিস্মা হয়ে যাবে। শুরুতেই এই লড়াইটা ছিলো মুক্ত চিন্তার অগ্রনায়ক পাদ্রীদের মধ্যে সীমিত। কিন্তু পাদ্রীরা যেহেতু ধর্মের নামে স্বাধীন চিন্তানায়কের সঙ্গে লড়াই করছিল, তাই খুব শীগগীরই এটি খ্রীষ্টান ধর্ম মুক্ত চিন্তার  ধারকদের মধ্যকার দ্বন্দ্বে পরিণত হলো। অতপর ধর্ম বস্তুটাকেই (তা যে কোন ধর্মই হোক না কেন) এই আন্দোলনের প্রতিদ্বন্দ্বী বলে আখ্যা দেয়া হলো। এই ভাবে নব্য যুগের বৈজ্ঞানিক দার্শনিকদের মধ্যে খোদা, আত্না কিংবা আধ্যাত্ববাদ অতিপ্রকৃ্তিবাদের বিরুদ্ধে এক তীব্র বিদ্বেষের সঞ্চার হলো। অথচ এটা আদৌ বুদ্ধি যুক্তিবাদের স্বাভাবিক পরিণতি ছিলোনা; বরং ছিলো নিতান্তই ভাবাবেগের আতিশয্যের ফলমাত্র। তারা খোদার প্রতি এই জন্যে বিদ্বেষী ছিলোনা যে, তাঁর অনস্তিত্ব বা অনুপস্হিতি সাক্ষ্য-প্রমাণের দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছিল; বরং তার প্রতি এই জন্যে বিরক্ত ছিলো যে, তিনি ছিলেন তাদের এবং তাদের মুক্ত চিন্তার শত্রুদের(খৃষ্টান পাদ্রীদের) প্রভু। পরবর্তী পাঁচ শতকে তাদের যুক্তি, বুদ্ধি চিন্তা এবং তাদের বৈজ্ঞানিক আন্দোলন যেটুকু কাজ করেছে, তার মূলে এই অযৌক্তিক ভাবাবেগই সক্রিয় ছিল"

                   (ইসলামা ও পাশ্চাত্য সভ্যতার দ্বন্দ্ব, সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদূদী)      

 

পুর্বেই বলা হয়েছে যে একটি জীবনাদর্শ দুটি জিনিসের সমন্বিত রূপ যথা-কীদা ব্যবস্থা। জীবনব্যবস্থাটি সঠিক নাকি ভূল তা নির্ভর করবে আকীদার উপর। যদি কীদা ভূল হয় তাহলে পুরো জীবনব্যবস্থাটি ভূল বে। মহান আল্লাহ যিনি মহাবিশ্বের মহান স্রষ্টা যিনি সবকিছু জানেন এবং তার সৃষ্ট সকল জড় ও জীবের চাহিদার পূর্ণ খোজঁ রাখেন। তিনিই জানেন মানুষের জন্য কোথায় ভাল কোথায় মন্দ নিহিত। সুতরাং জীবন ব্যবস্থা তার থেকে আসাই যুক্তিযুক্ত। এছাড়াও সৃষ্টিগত ভাবেই মানুষের মধ্যে ধার্মিকতা নিহিত। এটি তার প্রকৃতি কারণ মানুষের জ্ঞান, বিবেক বুদ্ধি, চিন্তা, শক্তি সব কিছুই সীমিত। যেহেতু সে সীমিত তাই সীমিত জ্ঞান সম্পন্ন মস্তিস্ক থেকে যে সমাধান আসবে তাতে অসঙ্গতি, পরস্পর বিরোধিতা পরিলক্ষিত হয় যা মানুষের অক্ষমতাকে প্রমাণ করে। ধর্মকে জীবন থেকে অপসারন করে, আল্লাহ পদত্ত জীবন ব্যবস্থার পরিবর্তে মানব রচিত জীবন ব্যবস্থাকে প্রতিস্থাপন করার অর্থ হচ্ছে মানুষের প্রকৃতিকে অস্বীকার করা। সুতরাং পুঁজিবাদী জীবন ব্যবস্থা মানুষের প্রকৃতি বিরোধী জীবন ব্যবস্থা যা মানুষের জীবন থেকে আল্লাহর সামগ্রিক আনুগত্যকে অপসারিত করে।

আমি এই নিবন্ধে পুজিবাদী কীদা এর থেকে উদ্ভূত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কিছু মৌলিক ভিত্তিগত নীতিমালা নিয়ে আলোচনা করবো। পরবর্তি পর্ব গুলোতে পুজিবাদের অন্যান্য অর্থনৈতিক ভিত্তি, নীতি, বৈশিষ্ঠ্য নিয়ে আলোচনা করা হবে এবং সবশেষে ইসলামের অর্থনৈতিক সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হবে।

 

 

 

1.মালিকানার চরম স্বাধীনতাঃ

পুজিবাদী আদর্শ বিশ্বা করে মানুষের জন্যে নিন্মোক্ত চার প্রকারের স্বাধীনতা প্রয়োজন।যথা-বিশ্বাসের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মালিকানার স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। মালিকানার স্বাধীনতা থেকেই পুজিবাদী অর্থনীতির জন্ম এবং এটিই আদর্শের প্রধান বৈশিষ্ঠ্য। মালিকানার স্বাধীনতা বলতে বোঝানো হয় - একজন মানুষ যে কোন ভাবে যে কোন কিছুর মালিক হওয়ার অধিকার রাখে এবং সে তার সম্পদ দিয়ে যে কোন কিছু করার অধিকার রাখে। এক্ষেএে শর্ত হল যাতে করে তার কর্ম দ্বারা অন্যের অধিকার খর্ব না হয়, যা পুজিবাদ কর্তৃক অনুমোদিত। সুতরাং ব্যবস্থায় একজন মানুষের যে কোন কিছু করার অধিকার রয়েছে চাই তা আল্লাহ কর্তৃক অনুমোদিত হোক অথবা অনুমোদিত না হোক। অনিয়ন্ত্রিত পুজিবাদী অর্থব্যবস্থায় শুধু বাড়ী, বাগান, ফ্যাক্টরী, যানবাহন, গৃহপালিতপশু, তৈজশপত্র, ফার্নিচার, প্রভৃতি সাধারন নিত্য ব্যবহার্য জিনিস গুলোর উপরই ব্যাক্তি মালিকানা স্বীকৃত হয় না বরং public property যথা-তৈল কূপ, খনী, সমুদ্র উপকূল, নদী, পানি, অস্র প্রভৃতি জিনিষের উপর ব্যক্তিগত মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত।

ব্যবস্থায় একজন ব্যক্তি এমন সব উপায়ে অর্থ উপার্জন করতে পারে যেগুলো আল্লাহ হারাম করেছেন যথাঃ-সুদি ব্যাংক, পতিতালয়, ক্যাছিনো,শুকরের খামার, চারিত্রিক নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী উপকরণ সমুহের ব্যবসা, বেশ্যাবৃত্তি, মদ পাদন,দের ব্যবসা, ভাগ্য না, মূর্তি গড়া, মূর্তি বিক্রয়, জুয়া এমন সব উপায় উপকর যেগুলোর মাধ্যমে নিছক ঘটনাচক্রে একজন লোকের সম্পদ অন্য লোকের নিকট হস্তান্তরিত হয়ে যায়।

'মালিকানার স্বাধীনতা' ধারণাটি গ্রহ করার কারনে পশ্চিমা সমাজ অসংখ্য রোগে আক্রান্ত, যথাঃ-অমানবিকতা, সুসংঘবদ্ধ অপরাধ, স্বার্থপরতা, অন্যের ক্ষতি হলেও কিভাবে নিজের লাভ হবে সার্বক্ষণিক সেই চিন্তা, পরিবারসহ সামাজিক অবস্থার অবনতি, অত্যধিক সামাজিক সমস্যা, পুজিবাদীদের হাতে দেশের সমস্ত সম্পদ কেন্দ্রিভূত হওয়া এবং তাদের মাঝেই আবর্তিত হওয়া। কারণে আমরা দেখতে পাই একদিকে সমাজের সম্পদের প্রাবল্য অন্যদিকে নিদারু্ণ দারিদ্র। একদিকে আছে প্রচুর সম্পদের মালিক অন্যদিকে আছে আবর্জনা থেকে খাদ্য সংগ্রাহী মানুষ। পুজিপতীরা তাদের সম্পদের প্রাবল্যের কা্রণে সমাজের নিয়ন্ত্রক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং তারা দেশের সকলভ্যন্তরি এবং বাহ্যিক রাজনীতি নিয়ন্ত্র রে। ডেভিড রকফেলার একবার সবাইকে স্তম্বিত করে জানিয়েছিলেন যে, দৈবচয়ন এক ভোটের ফলাফলে দেখা গেছে প্রতি পাঁচ জন ছাত্রের মাঝে তিনজন ছাত্রই মনে করে বৃহ পুজিপতী পরিবার গুলো সরকারের লাগাম প্রশাসন কংগ্রেসের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে। উক্ত ভোটের ফলাফল মিশিগান ইউনিভারসিটি র্তৃ পরিচালিত এক সার্ভে দ্বারা সমর্থিত হয়েছে। মালিকানার এই চরম স্বাধীনতা এবং এর ফল স্বরুপ উদ্ভূত প্রতিযোগিতার স্বাধীনতা ও রাষ্ট্র র্তৃক হস্তক্ষেপ না করার ফলে পুজিবাদী কোম্পানি গুলোর উদ্ভব ঘটে যারা রাজনীতিকে প্রভাবিত করে এবং যাদের কারণে যুদ্ধের সুত্রপাত টে।    

 

 .অর্থনীতি বিজ্ঞান ও অর্থনৈতিক ব্যাবস্থার মাঝে পার্থক্য করতে নাপারা।

ভ্রান্ত-পুঁজিবাদী অর্থনীতিবিদগণ বন্টন ও প্রবৃদ্ধির মধ্যে পার্থক্য করেনা। বরং তারা বন্টনকে প্রবৃদ্ধির মধ্যে অন্তুর্ভুক্ত করে। তাদের মতে অভাব পূরণকারীবস্তু ও সেবার উতপাদন এবং বস্তু ও সেবার বন্টন একি বিষয়। (both are considered in their view one subject) সুতরাং তাদের দৃষ্টিতে পণ্য ও সেবার বন্টন, পণ্য ও সেবার উতপাদনের মধ্যে অন্তুর্ভুক্ত। Distribution is included in the subject of production. অথচ বন্টন ও উতপাদন দুটি ভিন্ন জিনিস। কারণ অর্থনীতি বিজ্ঞান ও অর্থনীতি ব্যবস্থাপনা এক জিনিস নয়।

অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা (Economic system):

অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা জীবন সমপর্কে একটি সুনির্দিষ্ট ধারণা থেকে উতসারিত। অর্থাত, এটি একটি বিশেষ জীবনাদর্শের সাথে সমপর্কিত। তাই একটি জীবনাদর্শের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা অন্য একটি জীবনাদর্শের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থেকে পৃথক। উদাহরণ স্বরূপ মালিকানার ধারণার কথা বলা যায়। মালিকানার ইসলামী ধারণা পুঁজিবাদী ধারণা থেকে পৃথক আবার পুঁজিবাদী ধারণা সমাজতান্ত্রিক ধারণা থেকে পৃথক।

অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আলোচ্য বিষয়ঃ

1. How to distribute the wealth

2. How to spend wealth

3.  How to possess wealth

4. Analyzing the economic problem and giving solution to this                      problem basis on a particular ideology..

অর্থনৈতিক বিজ্ঞান (Economic science) :

অর্থনৈতিক বিজ্ঞান এটি একটি সার্বজনীন বিষয়। বিশেষ কোন মতাদর্শের সংগে এটি সমপৃক্ত নয়। (universal to all nations)

এর আলোচ্য বিষয় হলো

1. Production

2. Improvement of production

3. Invention

4. Improvement of means of production

সুতরাং অর্থনীতি বিজ্ঞান একটি technical issue যা purely scientific not ideological.

 

 3. অর্থনৈতিক সমস্যা   

অর্থনীতির যে কোন বই খুললেই শুরুতে অর্থনৈতিক সমস্যা কি এই বিষয়ে আলোকপাত করা হয়পুজিবাদী অর্থনীতি অনুযায়ী অর্থনৈতিক সমস্যা হল "ণ্য সেবার চাহিদার বিপরীতে এগুলোর যোগানের অপ্রতুলতা''। অর্থা সীমিত ণ্য ও সেবা সমুহ মানুষের অসীম প্রয়জন মিটানোর জন্যে যথেষ্ঠ নয়। অর্থনীতিবিদ  Jack Hirshleifer  তার Prise theory and application  বইতে লিখেন "the source of all economic problems is scarcity…….

scarcity thus forces us to make economic decision ; that is we produce and or trade with a view to obtaining  desired goods"

   

অর্থনীতিবিদ স্যামুএলসন তার বইতে লিখেন "Economics is the study of how societies  use scarce resources to produce valuable  commodities  and distribute them among different people" তার মতে অর্থনীতির দুটি প্রধান বিষয় হল

1.    Scarcity 

2.   efficiency  

 অর্থাত "that goods are scarce and society  must use resources efficiently"                                                                                                                                      

উপসংহারে তিনি বলেন "The essence of economics is to acknowledge  the reality of scarcity and then figure out how to organize society in a way which produces the most efficient use of  resources"  উপরের বক্তব্যগুলোর পর্যালোচনা দ্বারা পুজিবাদী অর্থনীতির যে দৃষ্টিভঙ্গী ফুটে উঠে তা হল-

.অভাব পূরণ করার জন্যে পাদনের ভূমিকাই মূখ্য এক্ষেএে সম্পদ বন্টনের গুরুত্ব গৌণ অর্থা তারা সম্পদ বন্টনের চাইতে সম্পদ পাদনের উপর গুরুত্ব আরোপ রে। বেশি বেশি করে পণ্য আর  সেবার পাদন করতে হবে যাতে করে যাদের সম্পদ আছে তারা ভোগ করতে পারে। যাদের নেই তাদেরকে ডাস্টবিন থেকে জীবিকা সংগ্রহ করতে বে। আর্থার ওকুন তাই পুজিবাদ সম্পর্কে মন্তব্য করেন, "পুজিবাদীব্যাবস্থা দরিদ্র ঘরের সন্তানের মুখে এক মুঠো ভাতের বদলে ধনীর ঘরের পোষা কুকুরের মাংসের ব্যাবস্থা করাকে অগ্রাধিকার দান করে"

.পুজিবাদী দৃষ্টিভঙ্গী হল সমাজের প্রত্যেক নাগরিকের প্রয়োজন সম্পূর্ণরূপে পূর করা সম্ভব নয়। সমাজের প্রত্যেক নাগরিকের প্রয়োজন পূর করাই যে অর্থনৈতিক চাহিদা তারা এটাকে অস্বীকার করে বরং যার টাকা খরচ করার ইচ্ছা সামর্থ আছে শুধু তারই চাহিদা থাকতে পারে। সুতরাং সমাজের প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক চাহিদা পূরণ করার ব্যবস্থার পরিবর্তে তারা মোট সম্পদ বাড়ানোর গূরুত্ব দেয় যেটাকে তারা প্রবৃদ্ধি লে।    

পুজিবাদী বিবেচনায় দেশের জনগণের highest possible level of welfare অর্জিত  হবে দেশের  পাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে, জাতীয় আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে। অর্থা তারা সমাজকে এমন এক প্রবৃদ্ধির দিকে ধাবিত করে যার ফলে অর্জিত সম্পদ কিছু লোকের কুক্ষিগত হয়। জিডিপি (GDP) এর প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে এই অর্থনীতি প্রত্যেক ব্যক্তির প্রয়োজন (to satisfy the needs of individuals) পূরণ করার পরিবর্তে যেসকল উপকর দ্বারা (what satisfies the needs) প্রয়োজন পূরণ হয়, তার বৃদ্ধির উপর আলোকপাত করে।   

পুজিবাদী অর্থনীতি তার আকীদা বিশ্বাস থেকে শুরু করে আগাগোড়া পুরোটাই ভ্রান্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা যে বাজারে প্রচুর পণ্য সেবার আধিক্য থাকলেই অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এর ভিত্তি হল আর একটি ভ্রান্ত ধারণা - প্রত্যেক ব্যাক্তি নয় বরং সামগ্রিক চাহিদা পূরণ করাই গূরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিপর্যায়ে দারিদ্রতা দূরীকর বা সুষ্ঠু বন্টন ব্যবস্থাকে উপেক্ষিত করে পুজিবাদ মূলত দেশের সামগ্রিক আয়ের পেছনে ছুটে চলছে। সমাজের প্রত্যেকের মৌলিক চাহিদা সূচারুরূপে পূরণ করা এবং একটি দেশের জাতীয় আয়ের মোট পরিমান বৃদ্ধি এক কথা নয়। সুতরাং ব্যাক্তি পর্যায়ে মৌলিক চাহিদা পূরণে সক্ষম এমন বন্টন ব্যস্থা হওয়া উচি আমাদের মূল উপজিব্য বিষয়। "অধিক প্রবৃদ্ধি ধনী ও দরিদ্রের ফারাক আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। তদানুযায়ী বেড়েছে তাদের ভোগের মাত্রার প্রভেদও। কোলকো এর মতে, 'যত দিন আয় বৈষম্য বিরাজ করবে, ততদিন ধনী ও দরিদ্র শ্রেণীর মাঝে ভোগের বিরাট ব্যবধান ও থেকে যাবে। অধিক প্রবৃদ্ধি প্রকৃতপক্ষে ধনীক শ্রেণীর বিত্ত ও আয়কে আরো ফাপিয়ে তোলে, কেনোনা বৈষম্য সৃষ্টিকারী সকল প্রকার পুঁজিবাদী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা এ অবস্থায় অব্যাহত গতিতে চলতে থাকে। অধিকন্তু প্রবৃদ্ধি কখনো একটানা চলতে পারে না। প্রবৃদ্ধির মাঝে মাঝে দেখা দেয় মন্দা ও বেকারত্ব। এই অর্থনৈতিক মন্দা সবার জন্য ক্ষতিকর হলেও দরিদ্র শ্রেণীর উপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশী নেতিবাচক"। (ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, ডঃ ওমর চাপরা)

"পুঁজিবাদি অর্থনীতির ফলাফল সম্পর্কে তাই অর্থনীতিবিদ টাওনী সঠিকভাবে মন্তব্য করেছেন, "প্রতিবছর বাজারে যে সকল পণ্য সামগ্রির উতপাদন দেখা যায় তার বড় অংশকে সঠিক অর্থে নিছক অপচয় বলা যায়, কেননা এসব সামগ্রির উতপাদনের কোন প্রয়োজনই ছিলো না অথবা অন্যসব অত্যাবশ্যক সামগ্রি যথেষ্ট পরিমানে উতপাদনের পরই এসব উতপাদনের অবকাশ দেখা দিত"। এ ধরনের অপচয়ধর্মী উতপাদনের ফলে উতপাদিত দ্রব্য সামগ্রির টাকার হিসাবে সামগ্রিক মূল্যমান যাকে জাতীয় আয় নামে অভিহিত করা হয় তা আপাতঃদৃষ্টিতে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মানুষের প্রকৃত অবস্থার কোন উন্নতি হয় না। তাই GNP এর হ্রাস বৃদ্ধি দ্বারা মানুষের কল্যাণ বা অবস্থার উন্নতি বোঝা যায় না"।(ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, ডঃ ওমর চাপরা)

 

 

 

প্রকৃতপক্ষে অর্থনৈতিক সমস্যা কি?

. "সমাজের বিবর্তন ক্রমোন্নতি ধারা অব্যাহত রেখে কিভাবে মানুষের অপরিহার্য জীবন সামগ্রি সরবরাহের ব্যবস্থা করা যায়; কিভাবে সমাজের প্রতিটি মানুষকে তার সামর্থ যোগ্যতা অনুযায়ী উন্নত করা যায় এবং কিভাবে তার ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করে যোগ্যতার চরম শিখরে পৌছে দেয়া যায় আসলে তাই হল মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যার মূলকথা"।(অর্থনৈতিক সমস্যার ইসলামী সমাধান, সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদূদী)

. "আসল অর্থনৈতিক সমস্যা হল সমাজের স্বাভাবিক ক্রমবিকাশের ধারাকে অখন্ড রেখে সামাজিক জুলুম-অবিচার কিভাবে প্রতিহত করা যায়। 'প্রতিটি সৃষ্টি তার জীবিকা লাভ করুক'- প্রকৃতির এই উদ্দেশ্যকে কিভাবে পূর্ণ করা যায় এবং কিভাবেই বা সেসকল প্রতিবন্ধকতা দূর করা যায়, যেগুলোর কারণে কেবল উপায় উপকরণ নেই বলে অসংখ্য মানুষের শক্তি, সামর্থ, যোগ্যতা প্রতিভা বিনষ্ট হয়ে যায়; মূলত এগুলো হচ্ছে মানুষের সত্যিকারের অর্থনৈতিক সমস্যা। একদিকে দারিদ্র আর ক্ষুধার জ্বা্লায় ধুঁকে ধুঁকে মরছে লক্ষ কোটি অনাহারি মানুষ আর অন্যদিকে জমির অঢেল পন্ন ফসল আর কারখানার বিপূল পণ্য সামগ্রি স্তুপিকৃত হয়ে পড়ে ছে" সুতরাং বন্টন সমস্যাই অর্থনৈতিক সমস্যা।(অর্থনৈতিক সমস্যার ইসলামী সমাধান, সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদূদী)

 

 

.অভাব

যে কোন সমাজের অর্থনৈতিক সমস্যা হলো পণ্য ও সেবার scarcity. পুঁজিবাদীদের আরো দাবী হলো ক্রমবর্ধমান চাহিদা, এবং সমস্ত চাহিদা পূরণ করা অসম্ভব। অর্থাত সমস্ত মানুষের প্রয়োজন পূরণ করার জন্য পণ্য ও সেবা অপর্যাপ্ত আর এটিই অর্থনৈতিক সমস্যার ভিত্তি। এটি একটি ভ্রান্ত (erroneous) দৃষ্টিভঙ্গি এবং বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কেননা মানুষের need দুপ্রকার একটি basic need অন্যটি luxurious need. যে need অবশ্যই পূরণ করতে হয় তা হলো basic need যথা food, shelter, clothing অন্যদিকে বিলাসজাত অভাব যথা প্রাসাদতুল্য বাড়ি, অলংকার, গাড়ি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ইত্যাদি এগুলো এমন অভাব নয় যে অবশ্যই পুরণ করতে হবে।

মানুষের মৌলিক need গুলো limited এবং পৃথিবীর  resource  efforts  যাকে তারা  commodities এবং  service বলে সেগুলো দ্বারা পুরো মানব জাতির Basic need  সমপূর্ণভাবে পূরণ করা সম্ভব।

সুতরাং need  নিজেই Economic problem না বরং Economic problem  হল  বন্টন ব্যবস্থা –সঠিক বন্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার Basic need  পুরোপুরিভাবে পুরণ করতে সামর্থ্যবান করে তোলা।এবং Basic need  পূরণ করার পর তাকে luxurious need পূরণ করার সামর্থবান হিসাবে গড়ে তোলা। এটাই অর্থনৈতিক সমস্যা।

বলা হয়ে থাকে মানুষের চাহিদা ক্রমবর্ধমান (steadly increasing)  কিন্তু মানুষের Basic need গুলো ক্রমবর্ধমান নয় বরং  Luxurious need গুলো ক্রমবর্ধমান। urbanisation এর কারণে যে need হয় তা মূলত luxurious need, Basic need  নয়।

 

 

সূত্রঃ

1. The Economic system In Islam . Shaikh Taqiuddin an-Nabhani

2. ইসলামের রেঁনেসা আন্দোলন, সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদূদী রহ

3. ইসলামা ও পাশ্চাত্য সভ্যতার দ্বন্দ্ব, সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদূদী    

4. অর্থনৈতিক সমস্যার ইসলামী সমাধান, সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদূদী

5. ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, ডঃ ওমর চাপরা